Kurulus Osman

অনুবাদ মিডিয়া কুরুলুস উসমান ভলিউম ৯২ বাংলা সাবটাইটেল

অনুবাদ মিডিয়া কুরুলুস উসমান ভলিউম ৯২ বাংলা সাবটাইটেল

ইতিমধ্যে মোহাকের পরাজয়ে তুর্কি সেনাবাহিনী ও অটোমান রাজধানীতে বিদ্রোহের মুখে সিংহাসন্চ্যুত হন সুলতান চতুর্থ মাহমুদ । এরপর তার দুই ভাইয়ের মাঝে বড়জনকে দ্বিতীয় সুলেমান হিসেবে সিংহাসনে বসানো হয়। ভাইয়ের তুলনায় সুদক্ষ সুলতান হিসেবে প্রমাণিত হন সুলতান দ্বিতীয় সুলেমান আদ্রিয়ানোপলে দিওয়ানদের জরুরি সভা বসে। মন্ত্রিপরিষদের পরামর্শ অনুযায়ী তৃতীয় কোপরুলাস মুস্তাফাজাদেকে প্রধান উজির পদে নিয়োগ দেয়া হয়।

প্রাণচার্ধুষে ভরপুর ও সুদক্ষ তৃতীয় কোপরুলু পুনরায় কাজ শুরু করে দেয়। রাজকোষ, প্রশাসন, সেনাবাহিনী প্রভৃতি সব ক্ষেত্রকে ঢেলে সাজিয়ে
অটোমান অঞ্চলসমূহের পুনরুদ্ধারের তোড়জোড় শুরু করে তৃতীয় কোপরুলু। নবীজির নাম ও আইনের কথা স্মরণ করে দিয়ে তুর্কিদের অনুপ্রাণিত করে তোলে হাবসবুর্গের বিরুদ্ধে।

১৬৮৮ সালে ইংরেজ অভ্যর্থানের ফলে ক্ষমতায় আসে উইলিয়াম অব অরেঞ্জ। ফরাসি কূটনীতিক কোপরুলুর কাছে আর্জি জানায় যেন পোর্তে
উইলিয়ামের স্বীকৃতি না দিয়ে সম্রাটের বিপক্ষে যুদ্ধ ঘোষণা করে। প্রথম দেয় প্রধান উজির ।

ফলে ১৬৯০ সালে নবীজির স্তম্ভ বহনকারী তুর্কি কোপরুলুর নেতৃত্বে সা্বীয়াতে অগ্রসর হয়। নিশ্সহ গুরুতৃপূর্ণ দুর্গ পুনর্দখল করে হৃত সম্মান ফিরিয়ে আনে অটোমান বাহিনী । এর ফল প্রায় বিনা বাধায় বেলগেডও দখল করে নেয় তুর্কি বাহিনী। কোনো বড় ধরনের অভিযানের পক্ষে এ ঝতু অনুকূল না হওয়ায় ছোট্ট এক দল সৈন্যবাহিনীকে ট্রান্সসিলভ্যানিয়ায় পাঠিয়ে মুস্তাফা জাদে বেলগ্রেড ত্যাগ করে। এখানে শক্তিশালী দুর্গ স্থাপন করে ইস্তাম্বুলের দিকে রওনা হয় প্রধান উজির; যেখানে সুলতান এক বিজয় সম্ভাষণ প্রস্তুত করে রেখেছেন তার উদ্দেশ্যে ।

See also  কুরুলুস উসমান ভলিউম ৯৬ বাংলা সাবটাইটেল অনুবাদ মিডিয়া

পুরো শীতকালজুড়ে বিশাল বড় এক বাহিনী প্রস্তুত করে কোপরুলু। ১৬৯১ সালের খ্রীন্মে এ বাহিনী বেলগ্রেড হয়ে দানিয়ুবে যাত্রা শুরু করে।
কিছুদূর এগিয়ে যেতেই প্রিন্স লুডউইগের অভিজ্ঞ বাহিনীর মুখোমুখি হয় তুর্কিরা। জেনারেলদের অপেক্ষা করার নীতি সরিয়ে আপন বুদ্ধি বলে কামান দাগার নির্দেশ দেয় মুস্তাফা।

প্রথম দিকে এ ভয়ংকর যুদ্ধে তুর্কিরা পিছিয়ে থাকলেও নদীপথে তাদের নৌকাসমূহ সুবিধাজনক অবস্থানে ছিল।

শত্রবাহিনী ছিল বন্দুকযুদ্ধে পারদশশী ৷ তাই পরাজয় অনিবার্য জেনেও এক দুঃসাহসী প্রচেষ্টায় রত হয় মুস্তাফা । আল্লাহর নাম নিয়ে অস্্রীয়দের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে প্রধান উজির । কিন্তু এই বীরত্ বৃথা যায়। কপালে আঘাত পেয়ে জন্য হয়তো এ সংবাদ গোপন করতে পারত। কিন্তু সবাই মাতম শুরু করে দিলে পর আতম্কগ্রস্ত হয়ে সাহস হারিয়ে মনোবল ভাঙ্গা সৈন্যরা পালিয়ে যায়। পুরো যুদ্ধক্ষেত্র বিশৃঙ্খল হয়ে যায়।

অস্ট্রিয়া খানিকটা মূল্য দিলেও শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হয়। কিন্তু মুস্তাফা জাদের মৃত্যুর সাথে সাথে অটোমানদের মাঝে ঘোর সংকট নেমে আসে ।
সুলতান দ্বিতীয় সুলেমান চার বছর পর এক অভিযানে মৃত্যুবরণ করেন। এরপর সুলতান দ্বিতীয় আহমেদও বছর চারেক শাসনামলের পর লজ্জা ও হতাশার মাঝে সমাপ্তি ঘটান।

See also  কুরুলুস উসমান ভলিউম ৯৮ বাংলা সাবটাইটেল অনুবাদ মিডিয়া

শুধু আনাতোলিয়াতে অভিযান চালিয়েই তুর্কিরা কেবল সান্তনা খুজতে পারে। ভেনেশীয়রা মোরিয়া দখলে রাখতে হিমশিম খেয়ে যায়। কেননা
থেবস্ ছিল তুর্কি পাশারা। ১৬৯৩ সালে মোরিসিনি ভেনিসের সকল সেনাবাহিনীর প্রধান নিযুক্ত হয়। কিয়স দখলের প্রতিজ্ঞা করে মোরোসিনি। যা
তুর্কিদের কাছে দার্দেনালেসের মতোই গুরুতৃপূর্ণ। কিন্তু পরিকল্পনা বাস্তব রূপ নেওয়ার পূর্বেই মোরোসিনি মৃত্যুবরণ করে । তথাপি মাল্টা ও পোপের বাহিনীর সহায়তায় কিয়স্‌ দখল করে ভেনেশীয়রা।

কিন্তু পরের বছরই তুর্কি নৌবাহিনী ভেনেশীয় স্কোয়াদ্রনকে হটিয়ে পুনরায় কিয়স্‌ দ্বীপ দখল করে নেয়। এই বিজয়ে ইস্তাখুলে আনন্দের ঢেউ বয়ে যায়। যদিও সুলতান আহমেদ এ সংবাদ শুনে যেতে পারেননি মৃত্যুর পূর্বে! এরপর সিংহাসনে আরোহণ করেন তার ভ্রাতুম্পুত্র দ্বিতীয় মুস্তাফা ।

এই অটোমান নৌবাহিনীর পুরো সাফল্যের দাবিদার নতুন প্রধান আযাডমিরাল হাসান। ভূমধ্যসাগরে তুর্কি নৌশক্তির জন্য নতুন আশা ও জীবনের
ডাক বয়ে আনে হাসান। অন্যদিকে কৃষ্ণ সাগরে নতুন এক শত্রু দেখা দেয়, রাশিয়া। কিন্তু এক্ষেত্রে ধন্যবাদ দিতে হয় তাতারদের। যাদের সহযোগিতায় পোলিশ ও রাশিয়া উভয়ের বিরুদ্ধে বেশ কিছু সফলতা লাভ করে তুর্কিরা এ অঞ্চলে । কিন্তু অনিবার্য শত্রু হিসেবে উন্মেষ ঘটে পিটার দ্য গ্রেটের। ১৬৯৫ সালে ক্রিযিয়াতে নতুন করে রাশিয়ার যুদ্ধ প্রস্তুতি ঘটান পিটার । তার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল আজঙ দখল করা। অটোমান সাম্রাজ্যের জন্য প্রথমবারের মতো বিস্তৃত পরিসরে নৌশক্তির উত্থান ঘটায় পিটার দ্য গ্রেট ।

See also  অনুবাদ মিডিয়া কুরুলুস উসমান ভলিউম ৯৭ বাংলা সাবটাইটেল

ইতিমধ্যে তরুণ সুলতান দ্বিতীয় মুস্তাফা প্রাণ-প্রাচুর্যে ভরপুর ছিলেন। পিতার মতো মামুলি শিকারি না হয়ে পূর্বপুরুষদের মার্শাল এতিহ্য ফিরিয়ে আনতে মনোযোগী হন তিনি। সুলতান আহমেদের মৃত্যুর তিন দিনের মাথায় রাজকীয় আড্ডার সুলতান দ্বিতীয় মুস্তাফা ব্যক্তিগত নেতৃতে হাবসবুর্ণ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে যুদ্ধযাত্রার ঘোষণা দেন।

এর ওপর ভিত্তি করে উলেমা, প্রধান উজির, অন্যান্য উজিরেরা, আঘার দল, লেফটেন্যান্টসহ সকলে একত্রিত হয়ে সিদ্ধান্ত নিতে বসে যে সুলতান কি সম্রাটের বিরুদ্ধে অগ্সসর হবে নাকি আদ্রিয়ানোপলে থাকবে । তিন দিন পর দিওয়ান-সুলতানের আদেশের বিরুদ্ধে যায়। কেননা এতে রাষ্ট্রের বিপুল ব্যয় হবে ও সুলতানের সামরিক অভিজ্ঞতাও বেশি নয়!

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button