Real History

অনুবাদ মিডিয়া কুরুলুস উসমান সব ভলিউম একসাথে দেখুন

স্পেনে অটোমানদের আক্রমণ বিস্তারিত পড়ুন

সব ভলিউমের লিংক পোষ্টের নিচে পেয়ে যাবেন

ইংরেজরা মাহমুদ আলীর কাছ থেকে ইব্রাহিম বাহিনীর প্রত্যাহার নিশ্চিত করে। যারা এতদিনেও রয়ে গিয়েছিল অবশেষে মোরিয়ার রাজধানী আক্রমণের পর ফরাসি বাহিনীর আক্রমণে পিছু হটে যায়। এরপর শাস্তি প্রক্রিয়ায় বিলম্বের কারণে রাশিয়া ও তুরস্ক নতুন করে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। কয়েক বছর পূর্ব থেকেই রাশিয়া তুর্কিদের ওপর কুটনৈতিকভাবে চাপ প্রয়োগ করে আসছিল । ১৮২৬ সালে পোর্তের ওপর অবমাননাকর আকারম্যান কনভেনশন চাপিয়ে দেয় রাশিয়া।

এর ফলে এরশিয়াতে অটোমানদের বেশ কিছু দুর্গের পতন হয়। এখন আবার নাভারিনোতে রণতরী হারিয়ে যাওয়ায় রাশিয়াই কৃষ্ণসাগরে শক্তিশালী হয়ে ওঠে। সামরিক জার প্রথম নিকোলাস অস্ত্রের মাধ্যমেই শক্রর বিনাশে আগ্রহী হয়ে ওঠে। যখন এটা স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে ১৮২৮-এর বসন্তে রাশিয়া অটোমান সাম্রাজ্যে আক্রমণ করতে চায়ঃ সুলতান তার পূর্বেই ১৮২৭-এর শীতকালে রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে বসে। হয়। এরপর জুনের পূর্বেই দানিয়ুব পার হয়ে বলকান পর্বতের শেষে সুলতানের রাজধানীর দিকে অগ্রসর হয় প্রথম নিকোলাসের বাহিনী । ভার্নার পতন হলেও পর্বতে প্রবেশের জন্য গুরুতৃপূর্ণ শূমলা ও সিলিস্ট্রিয়া বেঁচে যায়।

রাশিয়ার প্রভূত ক্ষয়ক্ষতি হলেও পরের বছর আবারো বৃহৎ বাহিনী কমান্ডার মার্শাল দিবিসের নেতৃত্েঃ যার অজেয় সফলতা ছিল খ্যাতির তুলে; অগ্রসর হয়। ছোট একটি রাশিয়া বাহিনী সিলিস্ট্রিয়া অবরোধ করলে পর মার্শালের বাকি বৃহৎ বাহিনী শৃমলাতে যুদ্ধে লিগ হয়। এবার তুর্কিরা ধরাশায়ী হলে পুরো গোলন্দাজ বাহিনী ধ্বংস হয়ে যায়।

এরপর দিবিস্‌ সাহসী পদক্ষেপে বলকান পর্বতমালা অতিক্রমের সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু শূমলা তখনো টিকে ছিল। রাশিদ পাশা শমলা রক্ষার দায়িত্ব নিলে ছোট একটি বাহিনী রেখে অবশিষ্ট বাহিনী নিয়ে পর্বতমালা অতিক্রমের আশায় নয় দিনের কষ্টসাধ্য ভ্রমণে অগ্রসর হয় মার্শাল। আশ্চর্যের বিষয় এই যে এ যাত্রাপথে মার্শাল প্রায় কোনো রূপ বাধাই পায়নি ।

See also  বোজকির আরসলান জালালুদ্দিন ভলিউম ১ বাংলা সাবটাইটেল অনুবাদ মিডিয়া

ফলে এ রকম দুর্ভেদ্য একটি বাধাও অতিক্রম করে রাশিয়া বাহিনী অনুপ্রবেশে সক্ষম হয়। এর মাধ্যমে কৃষ্ণসাগরে রাশিয়া রণতরীতে রসদ সরবরাহের পথ উন্মুক্ত হয়ে যায় রাশিয়ার সেনাবাহিনীর সামনে । ছোটখাট ভূর্কি প্রতিরোধ ভেঙে খ্রিস্টান কৃষকদের সাহায্যে রাশিয়া বাহিনী আদ্রিয়ানোপলের দেয়ালের সামনে অবস্থিত সমভূমিতে পৌছে যায়- ইউরোপে তুর্কিদের রাজধানী । এর দুর কোনো রকম গোলাগুলি ছাড়াই আত্মসমর্পণ করে বসে। কেননা এ ধরনের পার্বত্যাঞ্চলের বাধা পেরিয়ে এর পূর্বে আর কোনো সেনাবাহিনী অতর্কিতে হাজির হয়নি তুর্কিদের সামনে।

বস্তুত এ রকম একটি নিষ্নুর অঞ্চল পার হতে গিয়ে রাশিয়া বাহিনী ভগ্রাংশে পরিণত হয়েছিল। ডায়রিয়া, পোকা-মাকড় ও সামগ্রিক অবসাদের কবলে পড়ে পূর্বের শক্তি হারিয়ে বসেছে রাশিয়া বাহিনী । আবার নিরাপদে ফিরে যাওয়ার বা সৈন্য নিয়োগের কোনো সুযোগও ছিল না। তুর্কিরা যদি রাশিয়া বাহিনীর সংখ্যাকে অতিরঞ্জিত না ভাবত, তাহলে হয়তো তারা এদের ধ্বংস করতে পারত । এই ধরনের বিপদের কথা মাথায় রেখে ও কৃষ্ণসাগরে রণতরীর ছত্রচ্ছায়ায় বসফরাস ও ইস্তাম্বুলে আক্রমণের স্বপ্ন দেখে মার্শাল। নিজের বাহিনীকে তৎক্ষণাৎ আরো একশ মাইল এগিয়ে নিয়ে যায়।

রাজধানী জুড়ে হতাশা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মাথা ঠাণ্ডা রেখে নিজের দুর্গের শক্তির ওপর ভরসা রেখে তুর্কিদের স্বেচ্ছায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানায় সুলতান। নবীজির পবিত্র ব্যানার প্রসারিত করে সুলতান নিজ নেতৃত দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। প্রস্ততি নিয়েও প্ররোচনার বশে পূর্বসূরিদের মতো ঘোড়ার পিঠে সওয়ার না হয়ে গাড়িতে চেপে বসেন সুলতান। ফলে জনগণের মনোভাব দমে যায়। শ্রদ্ধা হতাশায় ছেয়ে যায়। দিওয়ানের প্রধানমন্ত্রী ও বিটিশ ও ফ্রান্স কুটনীতিকেরা শান্তির জন্য চাপ দেয় সুলতানকে।

See also  ফাতেহ আল আনদালুস ভলিউম ৬ বাংলা সাবটাইটেল অনুবাদ মিডিয়া

রাশিয়ার দুর্বলতাকে না দেখার ভান করে উভয় রাষ্ট্রদূত । এসব চাপে পড়ে সুলতান, যদিও তিনি ভীরু ছিলেন না, ভেঙে পড়েন। রাশিয়ার মিথ্যাচারের কবলে পড়ে, দিবিস্কে অনিবার্ধ ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচিয়ে ১৮২৯-এর শরতে নার্স নিয়ে আলোচনা করার জন্য দূত পাঠাতে সম্মত হন। রাশিয়া নমনীয় শর্তে একমত হয়। জা’রের নামে শপথ করে মার্শাল ভৌগোলিক বিস্তৃতি পরিত্যাগ করে ও যুদ্ধের মাধ্যমে জয় করা অঞ্চলসমূহ
অটোমানদের ফিরিয়ে দেয়।

কিন্তু মলদোভিয়ার কিছু অংশ ও দানিযুবের প্রবেশ মুখ নিজ অধিকারে রেখে দেয় নদী নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে । মলদোভিয়া ও ওয়ালাসিয়া সুলতানের শাসনাধীনে থাকলেও স্বায়ত্তশাসনের অধিকার পেয়ে কার্ধত মুক্তিই লাভ করে। সাবীয়ার স্বাধীনতা নিশ্চিত হয়। এশিয়াতে আরেক অবিসংবাদী জেনারেল পাসকিভিস্‌ একইভাবে বিজয় লাভ করে। কার্জ, আরজুরাম ও বায়েজীদ তুর্কিদের ফিরিয়ে দেয়া হয়। রাশিয়া অন্যান্য দুর্গ ও জর্জিয়াকে চিরস্থায়ীভাবে সংযুক্ত করে, ককেশাসের অন্যান্য অঞ্চল সমূহ সহ।

গ্রীসের ক্ষেত্রে পূর্বে প্রত্যাখান করা শর্তসমূহ মেনে নিতে বাধ্য হন সুলতান। রাষ্ট্র হিসেবে গ্রীস সম্পূর্ণভাবে স্বাধীন হয়ে যায়। ১৮৩০ সালে নতুন থিসের যাত্রা শুরু হয়। মূল ভূখণ্ড ও দ্বীপসমূহের মাধ্যমে গড়ে ওঠে ভবিষ্যতে রাজ্যে পরিণত হওয়া গ্রিস, ক্রিট ছাড়া সুলতানকে থেসালি ও আলবেনিয়া সীমান্ত প্রদেশ হিসেবে দিয়ে দেয়া হয়।

See also  বোজকির আরসলান জালালুদ্দিন ভলিউম ১ বাংলা সাবটাইটেল অনুবাদ মিডিয়া

নতুন রাষ্ট্র শাসন করার জন্য গ্রিসের রাজকুমার পদবিধারী প্রভুর খোঁজ শুরু হয় গ্রেট ব্িটেন, ফ্রান্স ও রাশিয়ায় শাসক পরিবারসমূহে। রাজা চতুর্থ জর্জের জামাতা, রাজকুমার লিওপোন্ড একত্রে প্রথম পছন্দ হয়। কাপোডিস্ট্িয়ার চাপে পড়ে বাধ্য হয়ে নিজের প্রার্থিতা তুলে নেয় লিওপোল্ড। কেননা রাশিয়ার স্বার্থের ওপর দৃষ্টি রেখে আজীবন ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছিল দেয় লিওপোল্ড। অতঃপর ১৮৩১ সালে মানিয়ত শক্রদের হাতে কাপোডিস্টরিয়ার পতন ও মৃত্যু ঘটে । গ্রিসের মুকুট পরিধান করে ব্যাভারিয়ার রাজা লুডভিগের পুত্র রাজকুমার ওথো ।

সুলতানের কাছ থেকে যথাযোগ্যভাবে স্বীকৃতি পেয়ে হেলেনিসদের প্রথম রাজা হিসেবে শাসনকাল শুরু করে রাজকুমার ওথো। অটোমান সাম্রাজ্যের জন্য মাত্র এক দশকেরও কম সময়ে এত বড় পরাজয় প্রভূত দুর্ভাগ্য বয়ে আনে । আংশিকভাবে এর পেছনে দায়ী ছিল সুলতানের অদক্ষ বিচারিক ক্ষমতা । সংকটের মুহূর্তে ত্রি-শক্তির সাথে সম্মানজনক শর্তের সুযোগ হারান সুলতান। এর ফলে পরাজিত হয় তার নৌ- বাহিনী, হারাতে হয় গ্রিস ও অন্যান্য অটোমান ভূ পরিতাপের বিষয় এই যে, দুর্ভাগ্য সুলতানের পিছু নেয় এমন এক সময়ে যখন দেশের মাঝে সুলতান যথেষ্ট শক্তি ও সফলতার সাথে বনুল প্রতীক্ষিত সংস্কার কর্মকাণ্ডকে এগিয়ে নিতে সক্ষম হন। যার ফলে অটোমান রাষ্ট্রের রাজনৈতিক কাঠামো ও সামাজিক ধারণার পরিবর্তন ঘটে।

কুরুলুস উসমান সব ভলিউমের লিংক যা আমাদের ওয়েবসাটে প্রাকাশিত হয়েছে

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button