Kurulus Osman

কুরুলুস উসমান ভলিউম ৯৩ বাংলা সাবটাইটেল অনুবাদ মিডিয়া

কুরুলুস উসমান ভলিউম ৯৩ বাংলা সাবটাইটেল অনুবাদ মিডিয়া

সুলতান বিশেষ দুজন প্রতিনিধি সরাসরি ইউরোপীয় সামরিক ক্ষেত্রের পাশাপাশি, সরকার, সমাজ ও রাজনৈতিক বিষয় সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য পাঠিয়ে দেন। ১৭৯২ সালে ইউরোপীয় রাষ্ট্রসমূহের সামরিক কার্যক্রম ও বিশেষ করে অস্টিিয়া সাগত্রাজ্যের সামরিক বিষয়াদি সম্পর্কে পূর্ণ প্রতিবেদন সুলতানের হাতে এসে পৌছায়। কিন্তু সুলতার তার সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ ও মতামত প্রদানের জন্য ফ্রান্সের দ্বারস্থ হন। প্যারিসের কাছে বিভিন্ন অফিসার ও টেকনিশিয়ানদের তালিকা পাঠিয়ে দেন সুলতান কর্মীর সন্ধানে_ বস্তুত এ আবেদনের প্রথম দিককার একজন আবেদনকারী ছিল তরুণ নেপোলিয়ন বোনাপার্তে।

কামান, গোলাবারুদ প্রভৃতি ক্ষেত্রে ফ্রান্সের পরামর্শ চাওয়া হয়__এ বিষয়ে সুলতান সেলিম নিজেও এতটা আগ্রহী ছিলেন যে সিংহাসনে আরোহণের পূর্বেই এর ওপরে একটি ব্যাখ্যা লিখে রেখেছিলেন। এছাড়াও অস্ত্রাগার, যন্ত্রপাতি, বন্দুকশালার উন্নয়ন প্রভৃতি ক্ষেত্রেও ফরাসি পরামর্শ মেনে নেন সুলতান । পূর্বে প্রকৌশলবিদ্যার বিদ্যালয়কে আরো বিস্তৃত করা হয়। বন্দুক
যুদ্ধ, দুর্গ নির্মাণ, নৌ চলাচল ও বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখার বিষয়ে জ্ঞান আহরণের জন্য নতুন নতুন সামরিক ও নৌ-বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।

এসব প্রশিক্ষকদের বেশির ভাগ ছিল ফরাসি। নিজেদের উপকারের জন্য ও সুলতানের সহায়ভা ও উৎসাহে এসব ফরাসি ইউরোপীয় বইয়ের এক বিশাল পাঠাগার গড়ে তোলে ইস্তাস্বুলে। এসব বই বেশির ভাগ ছিল ফরাসি ভাষায় আর তাই প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য ফরাসি ভাষা বাধ্যতামূলক করা হয়।

See also  কুরুলুস উসমান ভলিউম ৯৬ বাংলা সাবটাইটেল অনুবাদ মিডিয়া

এই কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে ১৭৯৫ সালে পুনরায় প্রাক্তন ফরাসি মুদ্রণ সংস্থা চালু করা হয় ইস্তাম্ুলে। প্যারিস থেকে আনা হয় কর্মচারী । এভাবে নতুন প্রজন্মের অনেকেই এসব বই ও ইউরোপীয় শিক্ষকের সংস্পর্শে পশ্চিমা সংস্কৃতি ও সভ্যতা সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করে আলোকিত হয়ে ওঠে। এ রকম সংকটময় মুহূর্তে অটোমান সাম্াজের রাজনৈতিক সমর্থন লাভের
জন্য মিশনারি ও ইস্তাম্বুল ও অন্যান্য জায়গায় ফরাসি সম্প্রদায় তুর্কিদের
সাহায্য করে চলে ।

এদের প্রভাবশালী একটি অংশ বিপ্লবকে সমর্থন দিয়ে, অস্ড্রীয় ও প্রশীয় কূটনীতিকদের রাগান্থিত করে বৈপ্লবিক সভা-সমিতি করা শুরু করে। ১৭৯৩ সালে ফরাসি প্রজাতন্ত্রের পতাকা উত্তোলনের এক অনুষ্ঠানে সেরাগলিও বন্দর থেকে দুটি ফরাসি জাহাজ স্যালুট প্রদান করে। অটোমান পতাকা ও আর্মেনীয়ান প্রজাতন্ত্রের অন্যান্য রাষ্ট্র যারা শাসকদের সাথে হাত
মেলায়নি তাদের পতাকাও উত্তোলিত হয়। এরপর শ্রদ্ধাভরে তুর্কি মাটিতে “স্বাধীনতার বৃক্ষ” রোপণ করা হয়। ফরাসিদের প্রচেষ্টায় ইস্তাম্বুলের সমাজেও পরিবর্তন আসে ।

মুসলিম ও ফরাসিদের মাঝে পূর্বের দূরত্ব কেটে গিয়ে তুর্কি, ভাষা ফরাসি ও ফরাসিভাষী তুর্কিদের মাঝে সৌহার্দ্য গড়ে ওঠে । আর এভাবেই সাম্প্রতিক ধ্যান-ধারণার আদান-প্রদান চলতে থাকে। যার মাধ্যমে তুর্কিদের ছোট কিন্তু প্রভাবশালী একটি অংশে বিপ্রবের চেতনা ছড়িয়ে পড়ে; পরামর্শ এবং উৎসাহের জন্য পশ্চিমামুখী হয়ে ওঠে তারা ।

কিছু সময়ের জন্য সাম্রাজ্যের খিস্টান অংশ বিশেষ করে ইস্তাম্বুলের গ্রিক ও আর্মেনীয় অভিজাত সম্প্রদায় পশ্চিমের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে সরকারের মাঝে গুরুতৃপূর্ণ স্থান দখল করেছিল । অটোমান অর্থনীতিতেও বিস্তর প্রভাব ছিল তাদের । সেলিমের পুনসংক্কার কাজে শিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত হওয়ায় এরা পশ্চিমা বই অনুবাদে পারদর্শী হয়ে ওঠে, পশ্চিমা শিক্ষকদের জন্য তুর্কি দোভাষী হিসেবে কাজ করতে থাকে । কিন্ত ফরাসি বিপ্লব সম্পর্কে এদের মনোভাব ছিল নেতিবাচক ।

See also  কুরুলুস উসমান ভলিউম ৯৪ বাংলা সাবটাইটেল অনুবাদ মিডিয়া

সুলতান সেলিমের কাছে পেশকৃত বিভিন্ন প্রতিবেদনের মাঝে একটিতে লেখা ছিল, “ইউরোপে দূত পাঠিয়ে ইউরোপীয় প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ ও আয়ত্ত করা।” এরই কারণে ১৭৯৩ সালে প্রথম সারির পাঁচটি ইউরোপীয় মিশন স্থাপন করে পোর্তে। যার প্রথমটি ছিল লন্ডনে, তৃতীয় জর্জের দরবারে । দায়িত্প্রাপ্ত দেশের প্রতিষ্ঠানসমূহ সম্পর্কে জ্ঞানার্জনের নির্দেশ দেয়া হয় তুর্কি কূটনীতিকদের । সাথে আরো যাওয়ার সুযোগ পায় গ্রিক দোভাষী ও তরুণ তুর্কি সেক্রেটারি। যার কাজ ছিল ভাষা শিক্ষার মাধ্যমে ইউরোপীয় সমাজ সম্পর্কে জানা বিশেষ করে ফ্রাল।

রাজনৈতিকভাবে এই প্রচেষ্টা তৎক্ষণাৎ ফলপ্রসূ না হলেও তরুণ তুর্কিদের একটি অংশ পশ্চিমের ধর্মনিরপেক্ষতা সম্পর্কে ধারণা ও অভিজ্ঞতা লাভ করতে সমর্থ হয়। পোর্তে ফিরে এসে সাম্রাজ্যের কাজে লাগবে এমন সব পদে অধিষ্টিত হয় তারা । এভাবে ইস্তাম্ুলেও বিদেশি নাগরিকদের বসবাস বেড়ে যাওয়ায় সেলিমের রাজত্কালে ইউরোপীয় জীবনধারা অবলোকনের সুযোগ পায় অটোমান সাম্রাজ্য।

ইতিমধ্যে নতুন শৃঙ্খলা আনয়ন কর্মসূচি, বিভিন্ন প্রতিবেদনের মাধ্যমে সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যাসমূহের মোকাবেলা করা শুরু করে। প্রাদেশিক তিন বছরে। এরপর পুনরায় নিয়োগ পাওয়ার ক্ষেত্রে শর্ত হয় এলাকার জনগণের সন্তুষ্টি । প্রাদেশিক কর ব্যবস্থার ক্ষেত্রে আদেশ জারি হয় যে কর সংগ্রহের দায়িত পালন করবে রাজকীয় খাজাঞ্চিখানা। কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষেত্রে প্রধান উজিরের ক্ষমতাও সীমিত করা হয়।

See also  অনুবাদ মিডিয়া কুরুলুস উসমান ভলিউম ৯৭ বাংলা সাবটাইটেল

শর্ত বেঁধে দেয়া হয় প্রতিটি গুরুতৃপূর্ণ বিষয়ে দিওয়ানের সাথে পরামর্শ করার। ভূমি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়। মালিকের মৃত্যুর ফলে শূন্য জমিসমূহ সরাসরি সার্বভৌম শাসকের হাতে চলে যায়। একইভাবে এর কর আদায়ের ভার যায় রাজকীয় খাজাঞ্চিখানার হাতে।

অর্থনৈতিক সংস্কারের ক্ষেত্রে দেশের মধ্যে পুনর্বাসনকে গুরুত্সহকারে বিবেচনা করা হয়। মুদ্রা সংস্কার করার উদ্যোগ নিয়ে এর সত্যিকার মূল্য স্থাপন করা হয়। শস্য ব্যবসার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ জরুরি হয়ে পড়ে। দেশের আর্থিক উন্নতি অনুকূল ব্যবসা ভারসাম্যতার ওপর নির্ভর করে। এই প্রতিষ্ঠা করার প্রস্তাব করা হয়। এছাড়াও খ্রিস্টানদের বদলে মুসলিমদের হাতে
তুর্কি বাণিজ্যকে ফিরিয়ে আনার প্রস্তাবও করা হয়। আর্থিক সংকট মোকাবেলার জন্য বৈদেশিক খণের কথা বিবেচনা করা হয়। কিন্তু এ প্রস্তাব বিরোধিতা করা হয় এ যুক্তিতে যে কোনো খ্রিস্টান দেশ থেকে মুসলিম সরকার খণ গ্রহণ করলে তা হবে অবমাননাকর । অথচ খণ দেয়ার মতো কোনো মুসলিম দেশও নেই।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button