Barbaroslar

বারবারোসলার ভলিউম ৩০ বাংলা সাবটাইটেল অনুবাদ মিডিয়া

তাই পরিকল্পনা করা হয় মুল্যবান ধাতু ও পাথরের রপ্তানি বন্ধ করা হবে এবং খনিকাজে লাগানোর প্রতি উৎসাহিত করা হয় সবাইকে । এছাড়া রাষ্ট্রিয়ভাবে শিল্প প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেয়া হয়। এসব উদ্যোগের কিছু কিছু বাস্তব রূপ লাভ করে। সুলতান তৃতীয় সেলিম (১৭৮৯-১৮০৭) তুর্কিদের কাছে “পৃথিবীর প্রভূ”, ও অনুপ্রাণিত হিসেবে পরিচিত । সংস্কার প্রবর্তনের জন্য প্রতিক্রিয়াশীলদের রোষানলে পড়ে নিজের সিংহাসন ও জীবন হারান । এই প্রধান তৈলচিত্র ইস্তাস্থুলে সংরক্ষিত আছে । এখানে কাছ থেকে সুলতানের স্বাক্ষর দেখা ঘায় ।

কিন্তু সেলিমের নতুন শৃঙ্খলা আনয়ন সামরিক ক্ষেত্রেই বেশি কাজ করে চলে। শীঘঘ্ঘই এটি অনুধাবন করতে পারে সকলে যে কার্যকর সংস্কারের জন্য কার্ষকর সরকার ব্যবস্থা প্রয়োজন আর আধুনিক সেনাবাহিনী কেবল এসব শর্তসমূহ পুরণ করতে পারে। সামরিক বিদ্যালয়ের জন্য পশ্চিমা ধাচে সজ্জিত ও প্রশিক্ষিত নিয়মিত পদাতিক বাহিনীর প্রস্তাব করা হয় সংক্ষার কার্যক্রমে । দিওয়ানের অধীনে নতুন ও বিশেষ খাজাঞ্ধিঃ স্থাপন করে এর ব্যয়ভার বহনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ভূমি কর, তামাক, কফি ও অন্যান্য দ্রব্য থেকে প্রাপ্ত অর্থ এ খাতে ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

নির্দি্ভাবে বলতে গেলে এ বাহিনীর পুনসংস্কারের জন্যই নতুন শৃঙ্খলা আনয়ন কর্মসূচির উদ্ভব হয়েছে বলা চলে। এ ধরনের বৃহত্তর পরিসরে সামরিক পুনঃসংস্কারের ব্যাপারে তুর্কিরা হয়ে ওঠে দ্িধাগ্রস্ত। প্রাটীনপন্থী যারা সাম্রাজ্যের পুরোনো সামরিক গৌরবকে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে উচ্চকাজক্মী হয়ে ওঠে, তারা প্রাচীন অটোমান সামরিক কায়দায় ফিরে যাওয়ার প্রস্তাব করে। সমঝোতায় আস্থাভাজনেরা ফ্রাঞ্কিশ পদ্ধতি আধুনিকবাদীরা, যারা বিশ্বাস করে যে পুরোনো সেনাবাহিনী সংস্কারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। আর তাই এ পক্ষ সাজানোর জন্য।

See also  বারবারোসলার ভলিউম ৩১ বাংলা সাবটাইটেল অনুবাদ মিডিয়া

এদিকেই মনোনিবেশ করেছেন সুলতান সেলিম। তিনি জানতেন যে সুশৃঙ্খলিত বিশ্বস্ত সেনাবাহিনী অত্যাবশ্যকীয় সাগ্রাজ্যের ভেতরকার শৃঙ্খলা রক্ষা ও সংস্কার কার্যক্রমের সফলতা এবং বৈদেশিক হুমকি মোকাবেলা উভয়
ক্ষেত্রেই এর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এক্ষেত্রে পিটার দ্য গ্রেটের উদাহরণে মনোযোগী হয়ে ওঠেন সুলতান ।

রাশিয়ার সাথে শেষ যুদ্ধের সময় প্রধান উজির ইউসুফ পাশা তুর্কি বংশোদ্ভুত রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে কর্মরত এক বন্দিকে নিয়ে আসে সুলতানের সামনে । ওমর আঘা আর তার সাথেই দুই দেশের সামরিক বিষয়াদি আলোচনা করতে প্রস্তুত হন সুলতান। আর ওমরের ছোট একটি বাহিনীর প্যারেড দেখে সুলতান বিস্মিত হয়ে ওঠেন। তিনি বুঝতে পারেন তার খ্রিস্টান শক্তির শ্রেষ্ঠতৃ একই সাথে অস্ত্র চালনায় ও নিয়মানুবর্তিতায়। একইভাবে জানিসারিসদের
এভাবে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনায় বিদ্বোহী হয়ে ওঠে তারা । ফলে এ পরিকল্পনার এখানেই ইতি ঘটে ।

১৭৯৬ সালে ইস্তাম্বুলে আগমন ঘটে প্রখ্যাত জেনারেল অবার্ট-ডুবায়েট, ফরাসি প্রজাতন্ত্রের কূটনীতিক হিসেবে । নিজের সাথে করে সুলতানের জন্য  পুরস্কারস্বরূপ অবার্ট নিয়ে আসে আধুনিক সব কামানের মডেল ও বেশ কিছুসংখ্যক ফরাসি প্রকৌশলী ও কামান বিশারদ । এই যৌথ প্রচেষ্টায় তুর্কি

অস্ত্রের নির্মাণ, সঙ্জাকরণ ও ভূমিকাতে প্রভূত উন্নতি ঘটে। এছাড়াও জানিসারিসও সিপাহিদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য সাথে নিয়ে আসে ফরাসি পদাতিক ও অশ্বারোহী বাহিনীর সামরিক সার্জেন্টদের। কিন্তু জানিসারিসরা ফরাসি
পদাতিকদের অস্ত্র বহনে বা শিক্ষা নিতে প্রত্যাখ্যান করলে ফরাসি সার্জেন্টদের হাতে শুধু ওমর আঘার ছোট্ট বাহিনীকে শিক্ষা দেয়ার সুযোগ থাকে। এ বাহিনীর নামকরণ হয় তোপিজি।

See also  বারবারোসা ভলিউম ৩২ বাংলা সাবটাইটেল অনুবাদ মিডিয়া

সবকিছু বলা এবং করার পরেও তুর্কিদের একটি গোষ্ঠীই কেবল সুলতানের শৃঙ্খলা আনয়ণ কর্মসূচি ও ফরাসি বিপ্লবের চেতনাকে সমর্থন জানায়। সরকারের মাঝে প্রতিক্রিয়াশীলদের একটি বড় অংশ বিপ্রবকে তুর্কিদের কোনো বিষয় নয় বরঞ্চ বর্বর পশ্চিমা খ্রিস্টানদের আভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করে।

কিন্তু এ বিষয়ে পরোক্ষ মত ওঠে আসে সুলতানের সেক্রেটারি আহমেদ ইফেনদির লেখনীতে, ১৭৯২-এর জানুয়ারিতে ইফেনদি, প্রকাশ করে * “ঈশ্বর ফ্রান্সের বিশাল উত্তরণকে সিফিলিসের মতো ছড়িয়ে দিন তুর্কি সাম্রাজ্যের শত্রুদের ওপর; সজোরে নিক্ষেপ করুন একে অন্যের বিরুদ্ধে সংঘর্ষে আর এর ফলাফল সাম্রাজ্যের মঙ্গল বয়ে আনুক। আমিন।” নিজের
অংশে সুলতান সেলিম এ যুদ্ধের ব্যাপারে পরিষ্কার ছিলেন, কিন্তু যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া স্বদেশে গৃহীত সংস্কারকাজে বাধাই আনবে শুধু কিন্তু যুদ্ধ হয়ে ওঠে অনিবার্ধ।

ফ্রান্সে নেপোলিয়নের উন্মেষ ঘটায় সেলিমের শান্তিবাদী ধারণার বাস্তব রূপ ঘটার কোনো আশা থাকে না। বোনাপার্টের রাজ্য বিস্তৃতির উচ্চাকাজ্ফার হাত থেকে পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষ কোনো ভাবেই অটোমান সাম্রাজ্যের বাচার উপায় থাকে না। ১৭৯৭ সালে ক্রা্স এবং অস্ডি্য়া সাম্রাজ্যের মাঝে স্বাক্ষরিত
হয়।

See also  বারবারোসা ভলিউম ৩২ বাংলা সাবটাইটেল অনুবাদ মিডিয়া

এর ফলে ভেনেশীয় প্রজাতন্ত্র খণ্ডিত রূপ লাভ করে । এরপর লেখা অনুষায়ী নেগোলিয়ন মনস্থির করেন, “পূর্বে ফরাসি শক্তির প্রতিষ্ঠা করা” অর্থাৎ অনেকটা ইংল্যান্ডের সাথে সংঘর্ষে জড়ানো প্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে। কিন্তু নেপোলিয়ন রাশিয়ার জার আলেকজান্ডারের ন্যায় অটোমান সাম রাজ্যকে ভেঙে ফেলার চেষ্টায় রত হননি। নেপোলিয়নের চোখে এ সাম্রাজ্য
ইতিমধ্যে নিজেদের কারণেই ধ্বংসের দিকে এগিয়ে চলেছে।

যেমন লিখে গেছেন, “আমাঁদের সময়কালেই এর পতন দেখতে পারব ।” এর পরিবর্তে ফ্রান্স সীমান্তের মাঝে বাণিজ্যিক, স্বার্থসংশ্রিষ্ট ও ধর্মীয় দিকে মনেযোগী হয়ে ওঠে নেপোলিয়ন।তূলনে নেপোলিয়ন এত বড় সেনা ও নৌবাহিনীর সমাবেশ ঘটান যা দেখে সবাই চিন্তিত হয়ে পড়ে। প্রথমে এটি ধারণা করা হয় যে সেনাবাহিনীর নকশা

এমন ভাবে হয়েছে যেন ইংল্যান্ড আক্রমণ করা যায়। কিন্ত ১৭৯৮ সালের এপ্রিলে পূর্ব দিকে যাত্রা করার পর পরিষ্কার হয়ে ওঠে যে এটি মিশনের উদ্দেশ্যে এগিয়ে যাচ্ছে। ব্যক্তিগতভাবে “শৃঙ্খলা” রচনায় নেপোলিয়ন দ্বিধাহীনভাবে উচ্চারণ করেছেন “প্রাচ্যের সব দখল থেকে ইংলিশদের মুক্ত করতে হবে; যেখানে নেপোলিয়ন পৌছাতে পারবেন এবং লোহিত সাগরে
তাদের সব স্টেশন ধ্বংস করে দিতে হবে।

সুয়েজের ইস্থমুস থেকে খনন করে এ সাগরে ফরাসি প্রজাতন্ত্রের মুক্ত এবং একচ্ছত্র অধিকার কায়েমের জন্য সব ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।” আলেকজান্ডার দ্য গ্রেটের পদাল্ক অনুসরণ করে নেপোলিয়নের উচ্চাকাজ্ষা হয়ে ওঠে ভারত থেকে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অপসারণ করা।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button